Featured Post Today
print this page
Latest Post
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

এক বছরের রাজা.............

লেখক : সুকুমার রায়

এক ছিলেন সওদাগর— তাঁর একটি সামান্য ক্রীতদাস তাঁর একমাত্র ছেলেকে জল থেকে বাঁচায়। সওদাগর খুশী হয়ে তাকে মুক্তি তো দিলেনই, তা ছাড়া জাহাজ বোঝাই ক’রে নানা রকম বাণিজ্যের জিনিস তাকে বকশিশ দিয়ে বললেন, “সমুদ্র পার হয়ে বিদেশে যাও— এই সব জিনিস বেচে যা টাকা পাবে, সবই তোমার।” ক্রীতদাস মনিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জাহাজে চড়ে রওনা হল বাণিজ্য করতে।
কিন্তু বাণিজ্য করা আর হল না। সমুদ্রের মাঝখানে তুফান উঠে জাহাজটিকে ভেঙ্গে-চুরে জিনিসপত্র লোকজন কোথায় যে ভাসিয়ে নিল, তার আর খোঁজ পাওয়া গেল না।
ক্রীতদাসটি অনেক কষ্টে হাবুডুবু খেয়ে, একটা দ্বীপের চড়ায় এসে ঠেকল। সেখানে ডাঙ্গায় উঠে সে চারিদিকে চেয়ে দেখল, তার জাহাজের চিহ্নমাত্র নাই, তার সঙ্গের লোকজন কেউ নাই। তখন সে হতাশ হয়ে সমুদ্রের ধারে বালির উপর বসে পড়ল। তারপর যখন সন্ধ্যা হয়ে এল, তখন সে উঠে দ্বীপের ভিতর দিকে যেতে লাগল। সেখানে বড় বড় গাছের বন— তারপর প্রকাণ্ড মাঠ, আর তারই ঠিক মাঝখানে চমৎকার শহর। শহরের ফটক দিয়ে মশাল হাতে মেলাই লোক বের হচ্ছে। তাকে দেখতে পেয়েই সেই লোকেরা চীৎকার ক'রে বলল, “মহারাজের শুভাগমন হোক। মহারাজ দীর্ঘজীবী হউন।” তারপর সবাই তাকে খাতির ক’রে জমকালো গাড়ীতে চড়িয়ে প্রকাণ্ড এক প্রাসাদে নিয়ে গেল। সেখানের চাকরগুলো তাড়াতাড়ি রাজপোশাক এনে তাকে সাজিয়ে দিল।
সবাই বলছে, ‘মহারাজ’,‘মহারাজ’, হুকুম মাত্র সবাই চট্পট্ কাজ করছে, এসব দেখেশুনে সে বেচারা একেবারে অবাক। সে ভাবল সবই বুঝি স্বপ্ন— বুঝি তার নিজেরই মাথা খারাপ হয়েছে তাই এ রকম মনে হচ্ছে। কিন্তু ক্রমে সে বুঝতে পারল সে জেগেই আছে আর দিব্যি জ্ঞানও রয়েছে, আর যা যা ঘটছে সব সত্যিই। তখন সে লোকদের বলল, “এ কি রকম হচ্ছে বল তো? আমি তো এর কিছুই বুঝছি না। তোমরা কেনই বা আমায় ‘মহারাজ’ বলছ আর কেনই বা এমন সম্মান দেখাচ্ছ?”
তখন তাদের মধ্যে থেকে এক বুড়ো উঠে বলল, “মহারাজ, আমরা কেউ মানুষ নই— আমরা সকলেই প্রেতগন্ধর্ব— যদিও আমাদের চেহারা ঠিক মানুষের মতো। অনেক দিন আগে আমরা, ‘মানুষ রাজা’ পাবার জন্য সবাই মিলে প্রার্থনা করেছিলাম; কারণ মানুষের মতো বুদ্ধিমান আর কে আছে? সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের মানুষ রাজার অভাব হয়নি। প্রতি বৎসরে একটি ক’রে মানুষ এইখানে আসে আর আমরা তাকে এক বৎসরের জন্য রাজা করি। তার রাজত্ব শুধু ঐ এক বৎসরের জন্যই। বৎসর শেষ হলেই তাকে সব ছাড়তে হয়। তাকে জাহাজে ক’রে সেই মরুভূমির দেশে রেখে আসা হয়, সেখানে সামান্য ফল ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না— আর সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনী খেটে বালি না খুঁড়লে এক ঘটি জলও মেলে না। তারপর আবার নূতন রাজা আসে— এই রকমে বৎসরের পর বৎসর আমাদের চলে আসছে।”
তখন দাসরাজা বললেন, “আচ্ছা বল তো— এর আগে তোমাদের রাজারা কি রকম স্বভাবের লোক ছিলেন?” বুড়ো বলল, “তাঁরা সবাই ছিলেন অসাবধান আর খামখেয়ালী। সারাটি বছর সবাই শুধু জাঁকজমক আমোদে আহ্লাদে দিন কাটাতেন— বছর শেষে কি হবে সে কথা ভাবতেন না।”
নতুন রাজা মন দিয়ে সব শুনলেন, বছরের শেষে তাঁর কি হবে এই কথা ভেবে ক’দিন তাঁর ঘুম হল না।
তারপর সে দেশের সকলের চেয়ে জ্ঞানী আর পণ্ডিত যারা, তাদের ডেকে আনা হল, আর রাজা তাদের কাছে মিনতি ক’রে বললেন, “আপনারা আমাকে উপদেশ দিন— যাতে বছর শেষে এই সর্বনেশে দিনের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।”
তখন সবচেয়ে প্রবীণ বৃদ্ধ যে, সে বলল, “মহারাজ, শূন্য হাতে আপনি এসেছিলেন, শূন্য হাতেই আবার সে দেশে যেতে হবে— কিন্তু এই এক বছর আপনি আমাদের যা ইচ্ছা তাই করাতে পারেন। আমি বলি— এই বেলা রাজ্যের ওস্তাদ লোকদের সে দেশে পাঠিয়ে, সেখানে বাড়ী ক’রে, বাগান ক’রে, চাষবাসের ব্যবস্থা ক’রে চারিদিক সুন্দর করে রাখুন। ততদিনে ফলে ফুলে দেশ ভরে উঠবে, সেখানে লোকের যাতায়াত হবে। আপনার এখানকার রাজত্ব শেষ হতেই সেখানে আপনি সুখে রাজত্ব করবেন। বৎসর তো দেখতে দেখতে চলে যাবে, অথচ কাজ আপনার ঢের; কাজেই বলি, এই বেলা খেটে-খুটে সব ঠিক ক’রে নিন।” রাজা তখনই হুকুম দিয়ে লোকলস্কর, জিনিসপত্র, গাছে চারা, ফলের বীজ, আর বড় বড় কলকব্জা পাঠিয়ে, আগে থেকে সেই মরুভূমিকে সুন্দর ক’রে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলেন।
তারপর বছর যখন ফুরিয়ে এল, তখন প্রজারা তাঁর ছত্র মুকুট রাজদণ্ড সব ফিরিয়ে নিল, তাঁর রাজার পোশাক ছাড়িয়ে এক বছর আগেকার সেই সামান্য কাপড় পরিয়ে, তাঁকে জাহাজে তুলে সেই মরুভূমির দেশে রেখে এল। কিন্তু সে দেশ আর এখন মরুভূমি নেই— চারিদিকে ঘর বাড়ী, পথ-ঘাট, পুকুর বাগান। সে দেশ এখন লোকে লোকারণ্য। তারা সবাই এসে ফূর্তি ক’রে শঙ্খ ঘণ্টা বাজিয়ে তাঁকে নিয়ে সিংহাসনে বসিয়ে দিল। এক বছরের রাজা সেখানে জন্ম ভরে রাজত্ব করতে লাগলেন।
উপদেশ : ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না
0 comments

অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি

rainy_day_lovers.jpg

মেয়েটির সাথে ছেলেটির পরিচয় ওদের স্কুলের একটি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে । ছেলেটির নাম ছিল রাজ ।
তখন ওরা দুজনই পড়ত ক্লাস এইটে । প্রেম কি জিনিস ঠিক মত বুঝতেও পারত না । ওদের পরিচয় স্কুলের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ।
মেয়েটি যখন পুরষ্কার নিতে এসেছিল ছেলেটি আগ্রহ হয়ে মেয়েটিকে তার নাম জিজ্ঞেস করে বসে ।
তোমার নাম কি ?
মেয়েটি উত্তর দেয় , আমার নাম নাজরিন সংক্ষেপে নাজ বলে ডাকতে পারো ।
দুজনের নামের ছিল অনেক মিল । এভাবেই ওদের পরিচয় হয়ে যায় ।
। প্রথম দেখাতেই রাজের মেয়েটিকে ভাল লেগে যায় নাজের সুন্দর কথা বলার ধরণের জন্য । রাজ শুধুই সুযোগ খুঁজত নাজের সাথে আবার কবে দেখা হবে । নাজ দেখতে খুব সুন্দরি ছিল সেটা সত্য নয় কিন্তু চেহারা ছিল মায়াময় ।
একদিন রাজ ওর বন্ধু রবিনের সাথে রবিনের এক কাজিনের বাসায় ঘুরতে যায় , গিয়েই দেখা হয়ে যায় নাজের সাথে । রাজের বন্ধু রবিন নাজকে তার কাজিন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় । কিন্তু ওর বন্ধু জানতো না যে ওরা একজন আরেকজনকে অনেক আগ থেকেই চিনতো । স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে প্রায়ই ওদের দেখা হত , কথা বলত অনেক সময় ওরা একজন আরেকজনের সাথে । রাজ একদিন মেয়েটিকে বন্ধুত্বের অফার করে বসে, আমরা কি একজন আরেকজনের বন্ধু হতে পারিনা ?
জবাবে মেয়েটি বলে , কেন নয় ?
এভাবেই ওদের বন্ধুত্ব শুরু । প্রতিদিন ওরা মোবাইলে কথা বলত। ছেলেটির নিজস্ব কোন মোবাইল ছিলনা কিন্তু মেয়েটির ছিল । ছেলেটি সবসময় লুকিয়ে লুকিয়ে ওর মায়ের না হয় বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে মেয়েটিকে ফোন দিত । ওরা একসময় ভাবতে থাকে ওরা আর বন্ধু নয় আরও অনেক কিছু । নাজ একসময় ছেলেটিকে ওর মনের কথা বলে বসে , শুনে রাজের মনে হয়েছিল পৃথিবীর সমস্ত ধন-সম্পদের মালিক সে নিজে । চলতে থাকে ওদের সম্পর্ক । প্রতিদিন একে অন্যের সাথে ক্লাস টিফিনের সময় দেখা করা , স্কুল ছুটির পর একসাথে বাসায় ফেরা , ফোনে নিয়মিত কথা বলা । রাজ ওর মাকে বলে বসে ওকে একটি মোবাইল কিনে দেবার জন্য । ওর মা ওকে না করে দেন । বলেন ফাইনাল পরীক্ষাতে যদি অনেক ভাল ফলাফল করতে পারে তবে তিনি তাকে একটি মোবাইল কিনে দেবেন ।
কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনেই ওদের কথা , নিয়মিত চলতেই থাকতো । হয় রাজ কখনও ওর মায়ের বা কখনও বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে নাজকে ফোন দিত ।
ধীরে ধীরে ওদের পরীক্ষা চলে আসে স্কুলও বন্ধ হয়ে যায় । ফোনে ছাড়া আর কোনভাবেই যোগাযোগ ছিলনা । এরই ভিতরে রাজের পরিবার থেকে ওকে বন্ধু বান্ধব সবার সাথে ফোনে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়া হয় । এমনকি বাসা থেকেও বেশি একটা বের হতে দেয়া হতনা ওকে ।
নিরুপায় রাজের আর কিছুই করার ছিলনা । পরীক্ষার পরও রাজ পড়াশোনা নিয়ে বিজি ছিল । কারন সে ছিল বৃত্তি পরীক্ষার্থী । এভাবেই কেটে যায় সব মিলিয়ে প্রায় দুইমাস সময় । রাজের বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হয় । দুই পরীক্ষার ফলাফল প্রায় একই সময়ে বের হয় রাজ বার্ষিক পরীক্ষাতে ওদের স্কুলে চতুর্থ হয়েছিল আর বৃত্তি পরীক্ষাতে সারা ঢাকাতে সেরা দশজনের ভিতরে ওর নাম ছিল । যথাসময়য়েই রাজ খাঁচার মুক্তপাখি হয়ে নাজকে ফোন দেয় । কিন্তু সেদিন ফোনে নাজ আর ওকে ওইভাবে আগের মত করে কথা বলল না । রাজের মনে হচ্ছিল কোথায়ও কোন কিছু হচ্ছে কিন্তু সে ধরতে পারছেনা । সেদিন সে আর বেশি কথা বলে নেই ।
কয়েকদিন পরে স্কুলে গিয়ে রাজ নাজের সাথে দেখা করার চেষ্টা করল । নাজ দেখা করল ঠিকই কিন্তু ওর কথা আগের মত মন খোলা ছিলনা । এভাবে নাজ রাজের কাছ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকলো । স্কুলের কোচিং ক্লাসে রাজ কোনভাবেই মনযোগ বসাতে পারছিলনা । শেষ পর্যন্ত রাজ জানতে পারল নাজের এক বান্ধবীর মাধ্যমে এই দুই মাস সময় যখন রাজের সাথে নাজের যোগাযোগ বন্ধ ছিল , নাজ ওকে ভুল বুঝে বসে । এরপর ধীরে ধীরে ওদের স্কুলের আরেক সিনিওর ছেলের সাথে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলে । শুনে রাজের মনে হয়েছিল তার হৃদপিণ্ড কেউ যেন ছুরী দিয়ে কেটে ফেলেছে । নিজেকে সে আর মানিয়ে নিতে পারছিলনা । কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে রাজ শেষ পর্যন্ত পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে । এরই ভিতরে রাজের বাবা বদলী হয়ে যান টাউন থেকে অনেক দূরে । বাধ্য হয়ে রাজ কেও সেখানের স্কুলে বদলী হতে হল ।
রাজের সময় সেখানে বেশ ভালই কাটছিল । সে একসময় নাজের বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারল । ইতিমধ্যেই ওই ছেলেটির সঙ্গে নাজের সম্পর্ক ভেঙ্গে গিয়েছে কারণ নাজ নিজেও জানতো না আসলে ছেলেটি খুব একটা ভাল ছিলনা । শুনে রাজ তেমন কোন মন্তব্য করেনি ।
এভাবেই কেটে গেল প্রায় বছর দুয়েক ।
নাজকে রাজ প্রায় ভুলেই গিয়েছে ।
রাজের এসএসসি পরীক্ষা সামনে । রাজ নিজেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করল । এরই ভিতরে রাজের স্কুল থেকে নির্দেশ এল ও আগে যেই স্কুলে ছিল সেখান থেকেই ওকে ফর্ম পূরণ এর সবকিছু আনতে হবে ।
রাজ একদিন সময় করে ওর আগেই স্কুলে রওনা দিল । অনেকদিন পর যেহেতু এসেছে ওর পুরানা সব বন্ধুদের সাথে অনেক মজা করল সারাদিন । এসএসসির ফর্ম পূরণের কাজও শেষ হয়ে গেল । বিকেল বেলা সূর্য প্রায় হেলে পড়েছে পশ্চিমে । সেই সাথে আকাশ আবার মেঘলা হতে শুরু করেছে । এটা দেখেই রাজ মনে মানে ভাবল , ছাতা নিয়ে এসে তাহলে ভালই করেছিলাম , নাহলে এখন বৃষ্টি শুরু হলে চরম বিপদে পরতাম ।
রাজ স্কুলের ক্যান্টিনে প্রবেশ করল ।
করবেই সাড়া দিন পরিশ্রমে খিদেও যা পেয়েছিল বলার মত নয় । স্কুলের জনসংখ্যাও তখন কমে আসছিল । খাওয়া শেষে রাজ খানিকটা অন্য মনস্ক হয়ে বসে আছে । ততক্ষণে ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে । রাজের কাছে বৃষ্টিটা অপ্রত্যাশিত মনে হতে লাগলো ।
হঠাৎ পরিচিত কণ্ঠস্বরে চমকে উঠল রাজ । পিছনে তাকিয়ে দেখল তার বহুদিনের সেই হারানো প্রেয়সি নাজ দাড়িয়ে আছে ।
কেমন আছো রাজ ?
ভাল আছি আমি । তুমি যে এখানে তোমাকে আগেতো স্কুলে দেখলাম না ?
রাজ আমি তোমার আসার কথা রবিনের কাছ থেকে শুনেছিলাম ।
ও তাই বুঝি । তাহলে এখানে কি মনে করে আমার সাথে দেখা করতে এসেছো ।
রাজ তোমাকে আমার কিছু বলার ছিল । রাজ আমি তোমাকেই ভালবাসি ।
নাজের এইকথা এখন রাজের কাছে খুবই হাস্যকর মনে হল ।
উত্তরে রাজ বলল,
তুমি আমাকে কিরকম ভালবাস , সেটা অনেক আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম ।
রাজ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি অন্যায় করেছি তোমার উপর ।
ভুল বা অন্যায় মানুষ করতেই পারে নাজ । ঠিক তেমনি তুমি করেছো । আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি ঠিকই কিন্তু তোমাকে আমার পক্ষে ভালবাসা আর সম্ভব নয় ।
রাজ বিশ্বাস কর এই দুই বছর প্রতি ক্ষেত্রেই আমি তোমার কথা ভেবেছি ।
নাজের এই কথা গুলো রাজকে স্পর্শ করলেও সে কোনকিছু না ভেবেই ওকে উত্তর দিল ,
নাজ তুমি প্লিজ এখন চলে যাও আমাকে একটু একা থাকতে দাও ।
কিন্তু তুমি আমাকে একবার বুঝার চেষ্টা কর । ।
অবরুদ্ধ আবেগে কাঁপা গলায় বলল নাজ । আর কথা বলা সম্ভব হলনা নাজের পক্ষে চোখ দিয়ে তার অঝোর ধারা মত পানি ঝরতে লাগল ।
তুমি তোমার মতই থাকো , বলে উঠে চলে গেল রাজ নাজ কে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ।
ক্যানটিনের দোতলার বারান্দায় দাড়িয়ে রাজ স্পষ্ট দেখেতে পেল নাজ এই তীব্র বৃষ্টির ভিতর দিয়ে ছাতা ছাড়াই মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে । সে কাঁদছে এটা পরিস্কার কিন্তু বৃষ্টির পানি আর চোখের পানি একা হয়ে যাওয়াতে সেটা ঠিকমত বুঝা যাচ্ছেনা । নাজের কাছে হয়ত ছাতা আছে ঠিকই কিন্তু এটা মেলা এখন খুবই অর্থহীন মনে হল তার কাছে ।
নাজকে এভাবে দেখে রাজের মনে পরে গেল সেই পুরনো দিনগুলির কথা । নাজের সেই ভালবাসার কথা । হঠাৎ রাজের বুকের ভিতর সেই পুরনো ভালবাসার স্রোত বয়ে যেতে থাকে ।
এক মুহূর্ত দ্বিধা করে সে দৌড়ে গিয়ে তার ছাতা মেলে ধরলো নাজের মাথায় ।
চমকে উঠে নাজ তাকিয়ে দেখে তার উপর ছাতা মেলে ধরে রেখেছে রাজ ।
বৃষ্টি সত্ত্বেও রাজ স্পষ্ট দেখেতে পেল নাজের কালো চোখে অশ্রুর পানি চিকচিক করছে ।
হঠাৎ হেসে ফেলল নাজ । বলল ,
আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল তুমি আসবে ।
কোন ইততস্ত না করে সোজাসুজি ক্ষমা চাইল রাজ । ভুল বুঝে হোক না বুঝে হোক , আমি তোমার প্রতি অন্যায় করেছি আমাকে মাফ করে দাও ।
নাজের চেহারা থেকে খসে পড়েছে ম্লানিমার ছায়া , আশ্চর্য একটা হাসি ফুটে উঠল নাজের ঠোঁটে ধীরে ধীরে । রাজ নিজের হাতে ওর চোখের পানি মুছে দিল । যদিও বৃষ্টির ভিতরে তার কোন প্রয়োজন ছিলনা । নাজের মনে হল শুধু চোখের অস্রু নয় সেই সাথে ওর সব দুঃখও মুছে দিয়েছে সে ।
এক হাতে ছাতা মেলে ধরে আরেক হাতে নাজকে শক্ত করে ধরে হেঁটে যেতে থাকে ওরা দুজন ।
নাজ খুব নিচু স্বরে রাজকে ডাকল ,
রাজ
বলো
তুমি কি আমাকে সারাটি জীবন এভাবে ধরে রাখতে পারবে ?
রাখব । সবসময় রাখব । উত্তর দিতে গিয়ে রাজের গলা আবেগে
কেপে উঠল ।
আমাকে প্রতিজ্ঞা কর ।
হ্যাঁ প্রতিজ্ঞা করলাম । তুমি জান আমি প্রতিজ্ঞা না করলেও সেটা করতে পারব ।
মাথা ঝুলিয়ে সমর্থন দিল নাজ । বা হাত দিয়ে নাজ তার চোখের পানি আবার মুছে নিল ।
কিন্তু রাজ জানে তার এই চোখের পানি আর দুখের নয় । এই অশ্রুর পানি আনন্দের ভালবাসার পানি । একজনের জন্য আরেকজনের ভালবাসার ।
(সংগৃহীত)
0 comments

মেধা বাড়াবেন কিভাবে?

 মেধা
কোন অনুষ্টানে হঠাৎ পরিচয়ের পর একজনের সাথে আলাপ হলো। দীর্ঘক্ষন কথা হলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তার নামটা ভুলে গেলেন। কোনো ভাবেই তার নামটা মনে করতে পারছেন না।
অফিসে আজ কী করবেন সে জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু অফিসে আসার পর কী একটা কাজ করার কথা ছিলো আর মনে করতে পারছেন না। দৈনন্দিন জীবনে এ রকম অভিজ্ঞতা কম-বেশি আমাদের সবারই হয়। নাম, ফোন নাম্বার, কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড, এমন অনেক মনে রাখার মতো জরুরি বিষয় একেবারেই কম নয়।

কিভাবে এসব বিষয় মনে রাখা যায় কিংবা ভুলে না যায় তার কী কোনো সহজ উপায় আছে। হ্যা অবশ্যই আছে। একটু অবাক লাগছে। সত্যিই কী এ রকম কি কোনো উপায় আছে ?
আসলে শরীরের যেকোনো মাসলের মতো ব্রেনকেও আপনি যত ব্যবহার করবেন ততই তা সক্রিয় হয়ে উঠবে। মনে রাখার ক্ষমতা জন্মসূত্রে পাওয়া হলেও স্মৃতিশক্তির একটা অংশ কিন্তু পরিবেশ, শেখার মাধ্যম এবং ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মানছি, ব্রেন কোনো কম্পিউটার নয় যে চিপ ঢুকিয়ে মেমরি বাড়ানো যাবে। তবে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর অনেক ব্যাপার আছে পুরোপুরিভাবে আপনার হাতে। ঠিক যেমন ফিজিক্যাল ফিটনেস ভালো করার জন্য আপনারা ব্যায়াম করেন, তেমনই ‘ব্রেন পাওয়ার’ বাড়ানোর জন্য কিছু স্ট্র্যাটেজি মেনে চলতে হবে। যেমন ধরুন নেমনিক্স ব্যবহার করা। রোজকার জীবনে এই তুরুপের তাসটা যদি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারেন, দেখবেন মনে রাখার জন্য বেশি চেষ্টা করতেই হচ্ছে না। নাম মনে রাখতে পারেন না, তাতে কী? কোনো সুন্দর ছবির সাথে অ্যাসোসিয়েট করে দেখুন, চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবেন না। ফোন নম্বর মনে রাখতে চাঙ্কিং পদ্ধতি ট্রাই করুন। নম্বর তিন সেটে ভাগ করে নিন। ৫৫৫৬৭৩৯১০-এর বদলে মনে রাখুন ৫৫৫-৬৭৩-৯১০। এইভাবে লম্বা ইনফরমেশনও ছোট সেটে অনায়াসেই ভাগ করে নেয়া যায়।
বাজার করার ফর্দ বানাতে বসে আমরা দরকারি জিনিসের নাম লিখতে ভুলে যাই। এই সমস্যার সমাধানেও কাজে আসতে পারে নেমনিক্স। বাড়ির কোনো ঘর বা বিশেষ কোনো স্থান দরকারি জিনিসের প্রেক্ষাপট হিসেবে জুড়ে দিতে পারেন। এরপর আর কী! ঘরের কথা ভাবলেই জিনিসের নামও আমরা আমাদের মস্তিষ্কের যা ক্ষমতা তার খুব কম পরিমাণই ব্যবহার করি। যে কাজটা যেভাবে করে আসছি, সেটা অন্যভাবে করার কোনো চেষ্টাই করি না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেভাবে ইনফরমেশন প্রসেস করার গতি বেড়ে যায়, সেটাকে ঠিকমতো কাজে লাগাই না। গতানুগতিক রাস্তায় চলতেই পছন্দ করি। কিছু না ভেবে একই পদ্ধতি বারবার প্রয়োগ করে কোনো কাজ করলে কিন্তু মস্তিষ্ক ঝিমিয়ে পড়ে। ব্রেনকে চাঙা রাখতে হলে ‘আউট অব দ্য বক্স’ রাস্তা বেছে নিতে হবে। এমন কিছু অ্যাক্টিভিটি বাছুন, যা আপনার কাছে নতুন, চ্যালেঞ্জিং। নতুন ভাষা শিখতে পারেন, ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন। পাজল বা সুডোকু সলভ করতে পারেন। এই পদক্ষেপগুলো মানলে ব্রেন বেশি সজাগ থাকবে।
মেমরি ভালো রাখার অন্য উপায়
‘ব্রেন বুস্টিং’
খাবার খান ব্রেনের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পুষ্টি ও এনার্জির প্রয়োজন। স্বাভাবিক নিয়মে আমাদের শরীরের কিছু অক্সিডেন্ট তৈরি হয় যা মস্তিষ্কের কার্যকরী ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যা শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরি করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকরী ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্রেন হেলথের জন্য ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জরুরি উপাদান। মাছে (বিশেষ করে স্যামন, টুনা, ট্রাউট) ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্ট, আখরোট, ফ্যাক্সসিড, সয়াবিনও ট্রাই করতে পারেন। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান। পালংশাক, ব্রকোলি, লেটুসের মতো সবজি, ফল (তরমুজ, আম), গ্রিন টি খাওয়ার চেষ্টা করুন। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখার জন্য কার্বোহাইড্রেট খাওয়াও জরুরি। সিম্পল কার্বোহাইড্রেট (চিনি, পাউরুটি ইত্যাদি) ব্রেনের জন্য ফুয়েলের মতো কাজ করলেও তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ব্রেন এনার্জি বজায় রাখার ভালো অপশন কম্পলেক্স কার্বোহাইড্রেট। হোল হুইট ব্রেড, ব্রাউন রাইস, ওটমিল, হাই ফাইবার সিরিয়াল নিজের ডায়েটে রাখুন। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খান।
এক্সারসাইজ করুন
ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ ব্রেনে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং যেসব অসুখে (যেমন ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ) ‘মেমরি লস হতে পারে, সেগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। উপকারী ব্রেন কেমিক্যালের পরিমাণও বাড়িয়ে দেয়। মেডিটেশন ও আরো কিছু যোগাসন আছে যা ব্রেন ও নার্ভাস সিস্টেমকে স্টিমিউজেট করে স্মৃতিশক্তি ও মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
ভালো করে ঘুমান
ভালো করে না ঘুমালে ব্রেন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। মনে রাখার সাথেও ঘুমের সরাসরি যোগাযোগ আছে। গবেষণা করে জানা গেছে, ‘মেমরি কনসলিডেশন’-এর জন্য ভালো ঘুম জরুরি। এমনকি দুপুরে আধঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট ঘুমও বেশ উপকারী। দুপুরে নিটোল ঘুম ডিকেরাটিভ মেমরিকে (বইপত্র পড়ে যা জ্ঞান অর্জন করা হয়, সেগুলো মনে রাখা) উসকে দেয়। ফলে যা শিখেছেন তা মনে রাখা সহজ হয়ে যায়। তবে জোর করে শেখা জিনিস কিন্তু মনে রাখতে সাহায্য করে না এই ঘুম।
বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান
রিসার্চ করে দেখা গেছে, জীবনকে যদি উপভোগ করতে পারেন, তার প্রভাব ‘কগনিটিভ অ্যাবিলিটির’ ওপরও পড়ে। আশপাশের লোকের সাথে ইন্টার‌্যাকশন করলে শুধু মন-মেজাজ ভালো থাকে না, ‘ইট ইজ অলসো আ ফর্ম অব ব্রেন এক্সারসাইজ’।
সাপোর্ট সিস্টেম থাকাটা শুধু ইমোশনাল হেলথের জন্যই নয়, ব্রেন হেলথের জন্যও জরুরি।

পাগলটার সাথে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি


লাল শাড়িতে বিয়ের কনে সেজে বসে আছি। পার্লার থেকে সাজিয়ে চেহারাটাকে সাদা করে দিয়েছে। আমার কাছে আমার শ্যামলা চেহারাটা দেখতেই ভাল লাগে। লাল কালারের শাড়িটাও ভাল লাগছে না। এটা কারো হৃদয় হরন করে সারা গায়ে রক্ত মেখে থাকার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। সবার সামনে আছি তাই কাঁদতেও পারছি না।

বুকে জমাট বাঁধা কষ্ট নিয়ে, মুখে একটা মুচকি হাসি একে কাঠের পুতুলের মত বসে আছি। সবার মুখে হাসি দেখতে এইটুকু তো আমাকে করতেই হবে। নাহলে নারী জাতির বৈশিষ্ট্য আমার থেকে বাদ পড়ে যাবে যে। সবার মুখে হাসি ফুটাতে পারব বললে ভুল হবে। অন্তত একজন এই মুহূর্তে কাঁদছে।

পাগলটা অনেক ইমোশনাল। দুষ্টামি করে কিছু বললেও কেঁদে ফেলত। তখন আমি বলতাম "এত ইমোশনাল বরের সাথে আমি কিভাবে বাকি জীবনটা কাটাব?" তারপর হেসে দিত।

একদিন খুব কাদিয়েছিলাম অন্য কাওকে বিয়ে করব বলে। কিন্তু কে জানত সেটাই সত্যি হতে যাচ্ছে। আমাকে ডাকত "পাখি" বলে আর আমি ডাকতাম "পাখির ডাবল বিএফ" বলে। ডাবল বিএফ মানে হচ্ছে বেস্ট ফ্রেন্ড আর বয় ফ্রেন্ড। সেই অভিমান, ভালবাসা, জোকস সবকিছুই স্বপ্ন হয়ে গেল জীবনের নির্মম সত্যির সামনে।

ছোটবেলায় অনেক দুষ্টু থাকলেও এখন মা-বাবার কথা শুনি। মা-বাবা দুজনেই অসুস্থ, তাদের কথা না শুনলে কষ্ট পাবে এবং আরো অসুস্থ হয়ে যাবে। ওদের কষ্ট দিব না বলেই অন্য কাওকে বিয়ে করতে মনকে বাধ্য করছি।

যাইহোক, বিয়ে করে নতুন আরেকটা বাড়িতে চলে এলাম। আমার স্বামী এবং তার পরিবার অনেক ফ্রেন্ডলি কিন্তু আমি ওদের আপন এখনো হতে পারি নি। জানি না পারব কিনা।

বারবার শুধু মনে হয় সেই পাগলটার সাথে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি। জানি না পাগলটা এখনো আমাকে ক্ষমা করেছে কিনা, তবে আমি আমাকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারব না। পাগলটার জন্য দোয়া করি যেন অনেক ভাল একজনকে তার জীবনসঙ্গীনী হিসেবে পায় যে কখনোই আমার মত নিষ্ঠুর হবে না.........

আমি দুঃখিত যদি কারো জীবনের সাথে মিলে যায়। এটা আমার লেখা নিছক গল্প মাত্র।

লেখিকা : দিলরুবা আহমেদ পরী

যে ভালো থাকে আল্লাহ তার সহায় থাকেন





আমাদের এলাকার এক বড় আপুর হাজব্যান্ড মারা গেছে । ছোট একটা বাচ্চা আছে আপুর।

গল্পটা অনেক দিন আগের তখন আমি সবেমাত্র ক্লাস টেনে পড়ি।

আপু যখন মাস্টার্সের ছাত্রী তখন ওনার হাজব্যান্ড লিভারের কি একটা অসুখে মারা যান। আপু তার হাজব্যান্ডকে খুব ভালোবাসতেন। তাকে বহু বার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো উনার পরিবার। কিন্তু তার একটিই কথা তিনি তার জীবনে আরাফাতের স্থানে আর কাউকে বসাতে পারবেন না । আরাফাতের ছেলেকে মানুষ হিসাবে তৈরী করাই এখন তার প্রধান কাজ।

আপুর হ্যাজবেন্ডের নাম আরাফাত।

আপু থাকতেন তার শ্বশুর বাড়িতে। হাজব্যান্ড আরাফাতের বাবার থেকে বরাদ্দ পাওয়া দুইটি ঘরে। তার যখন বিয়ে হয় তখন শ্বশুড় এ দুটি ঘর এবং একটি বাথরুম এবং রান্নাঘর তৈরী করে দেন। বিশাল বারান্দার মাঝে প্রাচির দিয়ে অন্য পাশের ফ্লাটটা দেন আলামিনকে। উনি আপুর ভাসুর হন।

একদিন গুজব উঠলো আপুর চরিত্র ভালো না। পড়ার নাম করে আপু কলেজে গিয়ে কার সাথে কি করে সহ আরও বহু ক্লেম।

এলাকায় এতো ছি ছি কথা ওঠে যে আপু আর ঐ বাড়ি থাকেন নি, নিজের বাপের বাড়ি চলে যান ছোট ছেলেকে নিয়ে।

বর্তমানে আপু হাই স্কুলের টিচার এবং তার ছেলেটাও বেশ বড় হয়েছে আপু যথারীতি এখনো বিধবাই আছেন।

আপুর কাছে আসল কথা শুনলাম আসলে কি এমন ঘটেছিলোঃ

আপুর ভাসুরটা ছিলেন আস্ত হারামী টাইপের মানুষ। তিনি আর তার বউ চেয়েছিলেন ফ্লাটটি দখল করতে। তারা ভেবেছিলেন আরাফাতের বউ এখনো ইয়াং মেয়ে। তার তো বিয়ে হবেই এবং সে চলে যাবে। দুই রুমের ফ্লাটটা ভাড়া দিয়ে খাওয়া যাবে। কিন্তু আরাফাতের বউ আর কাউকে বিয়ে করবে না এবং সে যথারীতি বাসা দখল করে বসবাস করছে এটা দেখে তার আর সহ্য হচ্ছিলো না।

কি আর করা তার নামে তিনি গুজব সৃষ্টি করে এ কাজ করেছেন। বাট আপু অনেক শক্ত ধাচেঁর মানুষ । তিনি নিজের আত্নসম্মান বাঁচানো এবং তার স্বামীর রেখে যাওয়া ছেলেকে সুস্থ ও নিরাপদে মানুষ করার জন্য বাপের বাড়ি চলে গেছেন । এবং দিব্যি চাকরী করে নিজের পায়ে নিজেই দাড়িয়েছেন । তার ভাই কিংবা বাবার টাকায় তাকে চলতে হয় না । এবং শ্বশুড়ের দেওয়া বাসাটি ভাড়া দিয়ে রেখেছেন ।

আল্লাহর বিচারঃ একজন মেয়ের নামে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কলংক দিয়েছিলো ওনার ভাসুর। আর ওনার মেয়ে প্রেম করে প্রেগন্যান্ট তার পর তো এলাকায় এই কাহিনী নিয়ে কত কানা ঘুষা।

যে ভালো থাকে আল্লাহ তার সহায় থাকেন। এলাকার লোক এত দিন পর হলেও বলা বলি করে। আরাফাতের বউটারে কলঙ্ক দিছিলো না এই ব্যাটা? দশ বারো বছর পর হলেও বিচার আল্লাহ দেখায়া দিছেন।

আপুকে আমার অনেক ভালো লাগে। কি ভাবে এত ঝড় ঝাপ্টা উপেক্ষা করে মৃত স্বামীর ভালোবাসা বুকে আগলে রেখে বেঁচে আছেন তিনি।

মাঝে মাঝে মনে হয় এরাই আসল মানুষ। যুদ্ধ করে কি ভাবে বাঁচতে হয় তা আপুকে দেখলে শেখা যায়। মন চায় আপুর জুতার ধুলা গায়ে মাখি।

আপুর ছেলেটা খুব লম্বা হয়েছে। আরাফাত ভাইয়ের গঠন পেয়েছে ছেলেটা। মাঝে মাঝে মনে হয় আরাফাত দুলাভাইয়ের ফটোকপি ছেলেটা।

এই পোষ্টটা অফিসে বসে লিখছি। এমনি এমনি চোখে পানি বের হয়ে গেলো। আসলে এত ভালো মানুষদের কাজ কারবার দেখলে আবেগ ঠেকিয়ে রাখা যায় না। সুখের কান্না আসে।

আরাফাত ভাই কি একটা বউ পেয়েছেন।

প্রতীক্ষার প্রহর


কোনো একদিন গভীর রাত, চির চেনা সেই জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি, সামনের রাস্তাটা দিয়ে অনেক্ষন পর পর দু একজন হেটে যাচ্ছে অথচ বোঝার উপায় নেই যে দিনের বেলায় এই রাস্তাটা কতটা ব্যস্ত থাকে। মাথার কাছেই আম গাছের পাতা গুলোর ফাঁকে ফাঁকে রুটির মত দেখতে চাঁদটা উকি মারছে কিন্তু আমাদের শহর এতটা নিষ্ঠুর যে এখানে শুধু তুলনা হয় ইটা কাঠের। পূর্নিমা রাতের জোছনা আমাদের জন্য নয়।

হঠাৎ সোহানা বলে উঠল,
--হেলো… চুপ করে আছো যে। (সোহানার অস্তিত্বটা মনে পরে গেলো।)
--এমনি…ভাবছিলাম।
--কি ভাবছিলে ?
--তেমন কিছু না, আমাদের আসলে ভাবার অবকাশ বেশি, করার কম।
--কি জানি তোমার এত ঘুরানো পেচানো কথা বুঝি না।
--এ আর এমন কঠিন কি… তুমিও বুঝবে শুধু অগ্রহ্য করে না দিলে।
--আচ্ছা তোমার ছেলে ভালো লাগে না মেয়ে ভালো লাগে?
--ভালো লাগাটা কোন দিক থেকে?
--আমাদের বেবির কথা বলছি।

আমি একটু মুচকি হেসে বললাম,
--প্রথম সন্তান আমি মেয়ে চাই, আমার মেয়ে বেশি পছন্দ। কারনটা তোমার জানা আমরা তিনটা ভাই আমাদের কোন বোন নেই। তাই প্রথমেই একটা মেয়ে চাই, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা, তবে যা হবে সেটাতেই সন্তুষ্ট আমি।
--আরে তাই নাকি! আমিও তো। জানো আমার মেয়ে কত ভাল লাগে? আর হেলো মিস্টার তুমি চা্ও মানে? চাই তো আমি! আমাকে একটা মেয়ে উপহার দিবা।

গভীর রাতেও শব্দ করে হেসে উঠলাম, মা জানে আমি সোহানার সাথে অনেক রাত পযর্ন্ত কথা বলি। আমি রশিকতা করে বললাম।
--মেয়ে উপহার দিবো? তা সেটা কিভাবে? মানে কি কি উপায়ে দিতে পারি সেটা?
--উফ…তুমি না …
জানতাম এইটাই বলবে সে, কারন উফ শব্দটা তার বহুল প্রচলিত শব্দ, তারপর বললাম,
--কি আমি?
--না কিছুনা।
--পুরাটা বলো।
--না তোমাকে সুযোগ দিলেই উল্টা পাল্টা বলবা। তোমরা ছেলেরা এত খারাপ…
মুচকি হেসে বললাম,
--সুযোগটা যে আমি শুধু তোমার সাথেই নিতে চাই সোহানা, আর এই ইচ্ছার পরিবর্তন হবে না এই জীবনে।
--দেখো আমি খুবই সিরিয়াস। জানো আমার স্বপ্ন আমাদের একটা মেয়ে হবে। আমার মেয়ে খুব ভাল লাগে।
--আমারো একি ইচ্ছা।

তারপর কেটে গেল অনেকটা দিন। সেদিন থেকেই আমাদের কল্পনায় ছিল মেয়েটি। দুজনে মিলেই যত্ন নিতাম তার খুব। সে যত্নে অবহেলা হয়নি কোন দিন। তারপর কোন এক ডিসেম্বরে সোহানার বিয়ে হয়ে গেলো। সৎ মায়ের ঘরে কত দিনই বা অপেক্ষা করতে পারতো মেয়েটা আমার জন্য, বুঝি সেটা আর তাইতো কোন অভিযোগ নেই।

তবে সোহানার স্বপ্নটা বুকে লালন করে রেখেছি আজো। সোহানা চলে গেছে তবে মেয়েটাকে রেখে গেছে আমার কাছে। যাবার আগে মেয়েটার নাম রেখে গেছে, ও বলেছে জানো আমাদের মেয়েটার নাম কি হবে? ওর নাম হবে ‘সেওনা’, একটু চিন্তা করলেই মানেটা তুমি বুঝবে। জবাবে কিছু বলিনি সেদিন, আসলে চাইলেও পারতাম না বলতে।

কিন্তু ওর ইমেইলটা পেয়েছিলাম ৩ মাস পরে কোন এক মার্চে, জবের ব্যস্ততার কারনে ইমেইল চেক করতাম না। সেদিন অনেক রাতে অফিস থেকে ফিরে ইমেইল চেক করতেই ওর ইমেলটা চোখে পড়ল।

২৫ ডিসেম্বরে সেনড করেছিল। তাতে লিখা ছিল, আজ আমার এঙ্গেজমেন্ট, কাবিনও হয়ে যাবে। তুমি বলেছিলে আমি যেন আদর্শ গৃহিনী হয়ে দেখাই। আমি তোমার কথা রাখব প্রতিক্ষা, নিজের যত্ন নিও ভালো থেকো।

তারপর থেকে ওর কোন খোঁজ নেই নি, ওর জীবনে আবারো অনুপ্রবেশ করার কোন দু:সাহস দেখাইনি কারন আমি ওর সুখ চাই, আর আমার ভালোবাসাকে বিতর্কিত করতে চাইনা কিছুতেই। তবে আমার মেয়েটা সব সময় আমার কল্পনাতে থাকতো আমার সাথে ঘুমাতো ঘুর ঘুর করে বেড়াত।

গত পরশু সোহানার ছোট ভাইয়ের প্রোফাইলে এক ছবি আপলোড করলো আর তাতে লিখা আজ আমি মামা হয়েছি, খুব ভালো লাগছে। দেখেই আমার বুকে ছেৎ করে উঠল। ঠিক বিশ্বাস করতে পারলাম না।
আমি তাকে ইনবক্স করলাম,
--বেবিটা কার ভাই?
--আমার শাহজালাল কাকার মেয়ের আপনি চিনবেন না।
--হুম…
কিন্তু আমার মনে এটা উসখুস করতেই লাগল না পেরে আবার জিজ্ঞেস করলাম--বেবিটা কি সোহানার?
--হুম ভাইয়া
--মিথ্যা বললা কেন?
--ভয়ে।
--কিসের ভয়?
--আপনি যদি কোন ক্ষতি করেন তাই।
--হাসালে ভাই।
--কেন?
--নিজের মেয়ের ক্ষতি কেউ করে না। ও আমার মেয়ে।
--ভাইয়া আপনি অনেক ভালো একটা মানুষ। আপুর তরফ থেকে আমি আপনার পা ধরে মাফ চাই তবু আপনি ওর উপর কোন রাগ রাখবেন না। অনেক কষ্টের পর আপু একটু সুখের মুখ দেখেছে। ও জন্য দোয়া করবেন।
--ও আমার জীবন আর নিজের জীবনের সাথে রাগ করে কেউ বাঁচতে পারে না। আমার সোহানা ভালো আছে সেটাই বড় কথা।
--ভাইয়া আগেও বলেছি আপনি অনেক ভালো একজন মানুষ ,অনেক বেশি ভালো, অনেক কষ্ট করেছেন আপুর জন্য । জীবনে অনেক ভালো কাওকে পাবেন।

কম্পিউটার মনিটরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম…কারন এই কথার কোন জবাব বা মন্তব্য কিছুই নেই আমার কাছে। আবার মেসেজ করল,
--আর ভাইয়া আরেকটা কথা
--হুম বলো
--আই লাভ ইউ।
--আই লাভ ইউ ট্টু, আর আমাকে ভুলে যেও না কখনো। শুনো আমার মেয়ের নাম রাখলাম সেওনা।
--নামটা সুন্দর না। এই নামের অর্থ কি?
--জানি না, কিন্তু আমি ওকে এই নামেই ডাকবো, আর তোমার আপুকে বলবা আমি ওর এই নাম দিয়েছি। তোমার আপুর পছন্দ হবে নামটা আর কারো না হলেও। আমাকে ভুলে যেও না। শুভ রাত্রি।
--আপনি ভুলে যাওয়ার মানুষ না। শুভ রাত্রি।

তারপর অনেকক্ষন যাবত চোখ বুজে সোহানাকে দেখার চেষ্টা করলাম, খুব দেখতে ইচ্ছা করল তাকে কল্পনার ক্যানভাসে ভেসে উঠল কোন এক হসপিটালে বেডে শুয়ে আছে, চুল গুলো এলো মেলো কিন্তু চোখের ভাষাটা আগের মতই আছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে একটু লজ্জা পাচ্ছে সে। আমি ভাবলাম আমার সোহানা এখন মা হয়ে গেছে, কত বড় হেয়ে গেছে সে। চোখ খুলে গেলো কারন কল্পনাটা আর এগিয়ে নিতে পারছিলাম না।

বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমার স্বপ্ন পূরন হয়েছে। আমার মেয়েটা বাস্তবে দুনিয়াতে এসেছে। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না আমার এমন কেন লাগছে, আমার তো খুশি হওয়ার কথা অনেক, কিন্তু কোথায় যেন একটা কষ্ট জমাট বেধে আছে। উল্লাস করার খুব ইচ্ছা করছে কিন্তু কোথায় যেন আটকে যাচ্ছি।

খুব চেষ্ট করিছিলাম এই পোষ্ট টা লিখার কিন্তু পারছিলাম না কিছুতেই, কিছুটা সময়ের দরকার ছিল আমার।
তার কিছুক্ষন পরে বাবু আমাকে চ্যাটএ নক করল,
--কিরে কই তুই।
আমি বললাম,--এইতো আছিরে, কই ছিলি এতক্ষন।
--সোহানার মেয়ে হইছে।
--তাই নাকি ? তার মানে সেওনা পৃথিবীতে আসছে ?
--হুম দেখবি ?
--হ্যা,
তারপর আমি তাকে ছবিটা দিলাম । ছবিটা দেখে বলল,
--দোস্ত কত কিউট হইছে। গায়ের রং ,চোখ, আর ঠোট পাইছে সোহানার মতই আর নাকটা হইছে তোর মত।
--তোর এই কথার কোন যৌক্তিকতা নাই।
--যা মনে হলো তাই বললাম। চল দেখে আসি।
--নারে, কি দিব মেয়ের হাতে, আমার যে সামর্থ্য নাই।
--আরে চল কিছুই দেয়া লাগবে না, বাবা মেয়েকে দেখতে যাবে এইটাই অনেক বড় ব্যপার।

মনে মনে ভাবলাম উপহারতো কম বেশি সবাই দিবে, কিন্তু আমার কি তেমনটা করলে হবে? আমার মেয়েটার জন্য চাই অমূল্য রতন।
--না, মেয়েকে যেদিন দেখতে যাবো সেদিন যাওয়ার মত যাবো। আরো সমস্যা আছে।
ভাবলাম, আমি চাইনা আমাকে দেখে আবার তার সব কিছু এলো মেলো করে ফেলুক, কারন আমাকে দেখে সে সামলাতে পারবে না নিজেকে, আমি জানি সেটা।
--ওকে তাহলে ঘুমিয়ে যা তুই।
--একটা পোটলা দরকার ছিলরে এই সময়টাতে, কই ছিলি সারা দিন।
--কালকে খাওয়ামু ,এখন ঘুমা।
--না আমার আসলে এখন দরকার ছিল, কিছুক্ষনের জন্য সব কিছু ভুলে যাওয়া দরকার।
--চিন্তা করিস না শুয়ে থাক ঘুম আসবে।

বিছানায় গেলাম কম্পিউটার বন্ধ করে, শুয়ে চোখ বুঝতেই ওর মুখটা ভেসে উঠল, একি কান্ড ও কেমন যেন হয়ে গেছে দেখতে, বুঝলাম আমার সোহানা এখন একজন মা…মুচকি এটা হাসি আসল…সত্যি সত্যি তার পরক্ষনেই তলিয়ে গেলাম অঘোর ঘুমে, ঘুম টা শুরু হওয়ার আগেই টের পেলাম সেওনা পেছন থেকে আমার গলা জড়িয়ে ধরেছে, হাসিটা প্রসস্ত হল আরো একটু।

তখনো ভাবছি, একদম মার মত ফুটফুটে হয়েছে মেয়েটা। মা, বাস্তবে রূপ নিলি তুই...ভালো থাকিস মা…যেখানেই থাকিস থাকবি এই অন্তরে… মানুষ থেকে মানুষ দূরে…অন্তর নয় অন্তর।
(সংগৃহীত)
 
Helped By : WWW.KASPERWINDOW.TK | KasperWindowTemplate | Download This Template
Copyright © 2011. আমার কথা ঘর - All Rights Reserved
Template Created by Aehtasham Aumee Published by KasperWindow
Proudly powered by Blogger